শূন্য পকেটের সম্রাট মির্জা গালিব
আপলোড সময় :
১৫-০৩-২০২৬ ০৯:২২:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৫-০৩-২০২৬ ০৯:২২:৩৩ অপরাহ্ন
শূন্য পকেটের সম্রাট মির্জা গালিব
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাত তখন আড়াইটা কি তিনটা। ঢাকার কোনো এক মেসের নিভৃত কোণে, কিংবা গুলশানের কোনো বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আনমনে স্মার্টফোনের স্ক্রিন স্ক্রল করছেন একজন তরুণ। হয়তো সদ্যই তার একটি দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান ঘটেছে, হয়তো মাসের পর মাস চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সফলতা, অথবা জীবনের এক চরম অস্তিত্বসংকটে ভুগছেন তিনি। চারপাশে বন্ধু নামের হাজারো মানুষের ভিড়, অথচ বুকের ভেতর এক আদিগন্ত শূন্যতা।
হঠাৎ টিকটক বা ফেসবুক রিলসের স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি লাইন—‘একাকীত্বের যন্ত্রণায় যে লোকটি মরে গেল, অথচ হাজার হাজার মানুষ তার জানাজায় সঙ্গী হয়েছিল!’
তরুণটি থমকে যান। তার মনে হয়, আজ থেকে প্রায় দুই শতাব্দী আগে জন্মানো এক বৃদ্ধ কবি যেন তার বুকের ভেতর জমে থাকা অব্যক্ত কথাগুলোই অক্ষরে অক্ষরে বলে দিচ্ছেন। এই জাদুকরের নাম মির্জা আসাদুল্লাহ বেগ খাঁ, যিনি বিশ্বজুড়ে অমর হয়ে আছেন ‘গালিব’ (বিজয়ী) ছদ্মনামে।
নব্বইয়ের দশকের তরুণদের দেখেছি হুমায়ূন আহমেদের হিমু হতে, শূন্য দশকের তরুণদের দেখেছি ব্যান্ড সংগীতে বিদ্রোহ খুঁজতে।
কিন্তু ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তন লক্ষ্য করছি। যে কবি শতাব্দীর সীমানা পেরিয়ে প্রায় হারিয়েই গিয়েছিলেন আমাদের সাধারণ পাঠকের ড্রয়িংরুম থেকে, তিনি আজ ফিরে এসেছেন প্রবল পরাক্রমে।
এই ফিরে আসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলেছে ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায়। দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের বইমেলায় তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল মির্জা গালিবের বই নিয়ে।
বিশেষ করে চারটি বই বিক্রির শীর্ষে ছিল— মুক্তদেশ প্রকাশন থেকে রুদ্র রাইয়ানের অনুবাদে ‘নির্বাচিত কবিতা - মির্জা গালিব’, একই প্রকাশনী থেকে মুস্তাফা জামান আব্বাসীর অনুবাদে ‘দাস্তাম্বু ও শায়েরী - মির্জা গালিব’, চারুলিপি প্রকাশন থেকে শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও আয়ান রশীদের অনুবাদে ‘গালিবের কবিতা’, এবং প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্স থেকে হাসিবুল হোসাইনের লেখা ‘ইরশাদ-ই-গালিব’।
কী এমন জাদু আছে আড়াই’শ বছর আগের এই উর্দু-ফারসি কবির কথায়, যা আজকের জেন-জি থেকে শুরু করে মিলেনিয়ালদের এতটা ভাবাচ্ছে? কেন তিনি লাইমলাইট থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন, আর কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া তাকে আবার ফিরিয়ে আনল? গালিব কি আবারও হারিয়ে যাবেন? চলুন, ইতিহাসের পাতা আর বর্তমানের স্মার্টফোনের স্ক্রিন মিলিয়ে সেই আদ্যোপান্ত খোঁজার চেষ্টা করি।
১৭৯৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর আগ্রার কালা মহলে এক সম্ভ্রান্ত মোগল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা গালিব। তার ধমনীতে বইছিল সেলজুক তুর্কিদের রক্ত। কিন্তু গালিবের জীবনে আভিজাত্য যতটা ছিল, তার চেয়ে ঢের বেশি ছিল হারানোর বেদনা।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে এক যুদ্ধে পিতাকে হারান তিনি। এরপর কাকা মির্জা নাসরুল্লাহ বেগ খানের আশ্রয়ে বড় হতে থাকেন, কিন্তু হাতির পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে সেই কাকারও মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
জীবনের শুরুতেই এই মৃত্যুগুলো গালিবকে এক অদ্ভুত দার্শনিক বানিয়ে দেয়। তিনি বুঝতে পারেন, এই পৃথিবীতে মানুষের নিয়ন্ত্রণ বড়ই সামান্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় গালিবের নামে একটি পঙক্তি খুব ঘুরে বেড়ায় : ‘হাতের তালুর রেখায় ভাগ্য দেখতে যেও না গালিব, ভাগ্য তাদেরও আছে যাদের হাত নেই।’
পঙক্তিটি আক্ষরিক অর্থে গালিবের মূল দেওয়ানের হুবহু অনুবাদ না হলেও, এটি গালিবের জীবনদর্শনের এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। নিজের জীবনে ভাগ্যের এই নির্মম পরিহাস তিনি বারবার দেখেছেন। পৈতৃক সম্পত্তি পাননি, ব্রিটিশ সরকারের ভাতার ওপর নির্ভর করে বাঁচতে হয়েছে তাঁকে। তবুও নিজের বংশমর্যাদা আর মেধা নিয়ে তাঁর অহংকার ছিল প্রবল।
১৮১০ সালে, মাত্র ১৩ বছর বয়সে নবাব ইলাহী বক্সের কন্যা উমরাও বেগমকে বিয়ে করেন গালিব এবং আগ্রা ছেড়ে পাড়ি জমান দিল্লিতে। কিন্তু এই দাম্পত্য জীবন তাকে কোনো সুখ দিতে পারেনি। তার স্ত্রী ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক ও রক্ষণশীল, অন্যদিকে গালিব ছিলেন স্বাধীনচেতা, খামখেয়ালি এবং সুরার প্রতি আসক্ত।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, গালিব-উমরাও দম্পত্তির সাতটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল, কিন্তু তাদের কেউই শৈশবের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। চোখের সামনে সাতটি সন্তানের মৃত্যু দেখা এক পিতার মনের অবস্থা কেমন হতে পারে? গালিব ভেতর থেকে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিলেন। এই চরম বিষাদ থেকেই হয়তো তার কলমে উঠে এসেছিল সেই বিখ্যাত দর্শন, যা আজ ইন্টারনেটে এই রূপে ভাইরাল: ‘যে দুঃখ নিজেই ডেকে এনেছি, সে দুঃখ নিয়ে আফসোস করবো কীভাবে? এবং এই যন্ত্রণার শেষ কোথায়?’
তরুণরা যখন ডিপ্রেশনে ভুগে আত্মহত্যার কথা ভাবে, তখন গালিব তাদের সামনে আয়না ধরেন এক অমোঘ সত্য নিয়ে: ‘জীবনের দুঃখের একমাত্র চিকিৎসা—মৃত্যু।’ (গালিবের মূল উর্দু পঙক্তি: কাইদ-এ হায়াত ও বন্দ-এ গম, আসল মে দোনো এক হ্যায় / মৌত সে পহলে আদমি গম সে নাজাত পায়ে কিঁউ?)
গালিব তার জীবদ্দশায় যতটা না জনপ্রিয় ছিলেন, মৃত্যুর পর তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বহুগুণ। কিন্তু বাংলাদেশে, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের পর এক দীর্ঘ সময়ের জন্য গালিব সাধারণ পাঠকের কাছ থেকে দূরে সরে যান। এর একটি বড় কারণ ছিল ভাষা। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবেই উর্দু ভাষার চর্চা কমে আসে। গালিব সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েন কেবল উর্দু সাহিত্যের ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিংবা পুরনো দিনের গজলপ্রেমীদের ড্রয়িংরুমে।
সত্তরের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত—আমাদের তরুণ প্রজন্ম ব্যস্ত ছিল সুনীল, সমরেশ, হুমায়ূন আহমেদ কিংবা রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহকে নিয়ে। গালিব যেন কালের অতল গহ্বরে, এক নীরব আর্কাইভে ধুলো জমছিলেন। লাইমলাইট থেকে তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন।
যে গালিবকে ইতিহাস ভুলতে বসেছিল, তাকে ফিরিয়ে আনল একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র—সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম রিলস এবং টিকটকের ১৫ সেকেন্ডের অ্যালগরিদম মানুষের অ্যাটেনশন স্প্যান কমিয়ে দিলেও, মানুষের ভেতরের একাকীত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমান সমাজ বড়ই মেকি। মানুষ যখন বুঝতে পারে, বিপদের দিনে এই দুনিয়ায় কেউ কারও নয়, তখন সে সান্ত্বনা খোঁজে। আর সেই সান্ত্বনা সে পায় গালিবের এই কথাগুলোতে: ‘আঁধার কেটে গেলে মানুষ চাঁদকেও ভুলে যায়, আর তুমি মানুষকে সাহায্য করো; ভাবো ওরা তোমাকে মনে রাখবে? তুমি এ পৃথিবীর সবচেয়ে বোকা গালিব।’
বন্ধুদের বিশ্বাসঘাতকতায় জর্জরিত এক তরুণ যখন মাঝরাতে কাঁদে, তখন গালিব তাকে আত্মনির্ভরশীলতার পাঠ দেন এই বলে: ‘কখনো চোখে জল এলে নিজেই মুছে নিও বন্ধু, কারণ অন্য কেউ মুছে দিলে তার বিনিময় চাইবে।’
এখানে একটি বিষয় আমাকে বলতেই হয়—সোশ্যাল মিডিয়ায় গালিবের নামে শেয়ার হওয়া অনেক বাংলা কোটেশনই হয়তো গালিবের মূল ফারসি বা উর্দু রচনার আক্ষরিক অনুবাদ নয়। ইন্টারনেটের যুগে গালিব এখন শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি 'জনরা' বা 'মিথ'-এ পরিণত হয়েছেন। মানুষের যেকোনো চরম দুঃখবোধ, একাকীত্ব বা বঞ্চনার কথা গালিবের নাম দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ছদ্ম-পঙক্তিগুলোও গালিবের মূল দর্শনের সঙ্গে এত অদ্ভুতভাবে মিলে যায় যে, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।
গালিবের ঈশ্বরচিন্তা ছিল তার সমসাময়িক সমাজের চেয়ে বহু যোজন এগিয়ে। তিনি কোনো প্রথাগত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বাঁধাধরা নিয়মে নিজেকে আটকে রাখেননি। তিনি মদ খেতেন, জুয়া খেলার অপরাধে জেলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু ঈশ্বরের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড় এবং অভিমানী।
আজকের তরুণরা যখন দেখে তারা মসজিদে গিয়েও শান্তি পাচ্ছে না, যখন তাদের প্রার্থনাগুলো কবুল হচ্ছে না, তখন তারা ঈশ্বরের প্রতি এক ধরনের অভিমান পুষে রাখে। গালিব তাদের সেই অবচেতন মনের কথাগুলোই যেন বলে গেছেন : ‘তুমিও না গালিব, খুবই চমৎকার! চাওয়া, পাওয়া—সব রেখে দিলে মানুষের কাছে, আর অভিযোগ করো খোদার কাছে।’ (এরই আরেকটি রূপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরে: ‘আমাকে কষ্ট দিয়ে খোদার কাছে সুখ চাও...? খোদা তো আমারও।’)
সুখ ও দুঃখের এই অদ্ভুত সমীকরণ গালিব খুব নিখুঁতভাবে বুঝতেন। মানুষ তার সুখের সময় ঈশ্বরকে ভুলে যায়, আর দুঃখের সময় তার কাছেই ফেরে। গালিব প্রশ্ন করেন: ‘যদি দুঃখের সময় আকাশের সঙ্গে কথা বলতে হয়, তবে সুখের বেলায় মানুষের দরকারটাই বা কী?’
নিজের পাপবোধ নিয়ে গালিবের এক চরম হাহাকার ছিল। তিনি জানতেন তিনি প্রথাগত ধার্মিক নন। কিন্তু ঈশ্বরের ক্ষমার প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস ছিল। তাই তো তিনি অবলীলায় বলতে পারেন: ‘পাপ করে কোথায় যাবে গালিব? এই আকাশ-মাটি—সবই তো তাঁর।’
আবার কখনও কখনও নিজের গুনাহ নিয়ে গালিব নিজেই লজ্জিত হয়ে উঠতেন। হজের মৌসুমে যখন সবাই কাবা শরিফে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল, গালিব তখন নিজের ভেতরের আয়নায় তাকিয়ে লিখছেন: ‘কী মুখে কাবায় যাবে হে গালিব, যখন তুমি লজ্জিত নও?’ (মূল উর্দু: কাবা কিস মুহ সে জাওগে গালিব / শর্ম মাগার তুমকো নেহি আতি)
প্রেমের ক্ষেত্রে গালিবের শায়েরি এক অসীম সমুদ্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্রেকআপ জেনারেশনের কাছে গালিব যেন এক থেরাপিস্ট। প্রিয় মানুষের কাছ থেকে একটু মনোযোগ পাওয়ার জন্য আজকের দিনে মানুষ যখন ইনবক্সে মেসেজ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ‘সিন’ হওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকে, গালিব সেই না-বলা যন্ত্রণাকে রূপ দিয়েছেন এভাবে: ‘আমারও তো মুখে কথা আছে, আহ! কেউ যদি একবার অন্তত জানতে চাইত—আমি কী চাই।’
আর যখন সেই প্রিয় মানুষটি ফিরে আসে না, তখন অভিমানী প্রেমিক মৃত্যুর অপেক্ষা করে। কিন্তু সেই অপেক্ষার মধ্যেও এক তীব্র শ্লেষ লুকিয়ে থাকে: ‘তুমি যদি না আসো, মরার তো শত উপায় আছে—মৃত্যু তো তুমি নও, যে আমন্ত্রণ জানাতেও পারি না!’
১৮৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লির গলি কাসিম জান, বালিমাড়ানের এক ভাড়াবাড়িতে চরম দারিদ্র্য আর অসুস্থতার মাঝে এই কিংবদন্তি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি জানতেন, এই দুনিয়া এবং পরকাল—সবই এক মায়ার খেলা। তাই হয়তো তিনি নিজের মনকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন এই বলে: ‘কবর আর কদরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই—দুটিই মেলে মৃত্যুর পর! এবং কবরই তো তোমার ঠিকানা গালিব! অন্তত কিছু ইবাদত করো—কারও বাড়িতে খালি হাতে যেতে নেই ‘
এখন প্রশ্ন হলো, সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে গালিবের এই যে অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন, তা কি সাময়িক? কয়েক বছর পর কি গালিব আবারও হারিয়ে যাবেন? ‘একজন লেখক হিসেবে আমার উত্তর হলো—না। গালিব আর হারাবেন না।’
প্রযুক্তির পরিবর্তন হবে, ফেসবুক হয়তো একদিন থাকবে না, টিকটক হয়তো হারিয়ে যাবে নতুন কোনো মাধ্যমের ভিড়ে। কিন্তু মানুষের ভেতরের একাকীত্ব কি কখনো কমবে? প্রিয়জনকে না পাওয়ার যন্ত্রণা কি মুছে যাবে? বেকারত্বের হতাশা বা অস্তিত্বের সংকট কি সমাজ থেকে বিলীন হয়ে যাবে?
যতদিন মানুষের বুকে ভাঙা হৃদয় থাকবে, যতদিন রাতের গভীরে মানুষ তার নিজের ব্যর্থতার হিসাব মেলাতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে, ততদিন মির্জা গালিব প্রাসঙ্গিক থাকবেন। অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ তরুণদের এই বই কেনার হিড়িক কোনো সাময়িক হুজুগ নয়; এটি আসলে নিজেদের আত্মাকে খোঁজার এক নীরব আন্দোলন।
গালিব কোনো নীতিবাক্য শোনাননি, তিনি শুধু তার নিজের ব্যর্থতার কথা বলেছেন। আর মানুষ যখন গালিবের সেই ব্যর্থতার মাঝে নিজের ছায়া দেখতে পায়, তখন এক অদ্ভুত শান্তিতে তার চোখ ভিজে ওঠে। গালিব আড়াই’শ বছর আগে মরে গিয়েও আজকের তরুণদের বেঁচে থাকার এক আশ্চর্য রসদ জুগিয়ে চলেছেন।
তাই বলা যায়, গালিব কেবল আর একটি নাম নন, তিনি পরিণত হয়েছেন তারুণ্যের দীর্ঘশ্বাসের এক অবিচ্ছেদ্য সমার্থকে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload
কমেন্ট বক্স